করোনা ভ্যাকসিন; জেনে রাখা ভালো

করোনা ভ্যাকসিন; জেনে রাখা ভালো

স্বাস্থ্য

নিজেকে নিরাপদ তথা করোনা বিস্তার প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু টিকার টুকিটাকি জেনে রাখা ভালো। আশীর্বাদ হিসেবে এই টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। ফাইজার, অক্সফোর্ড, মডার্না সবগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই রকম বলা যায়। তবে সাধারণত একশ জনে একজন অল্পমাত্রা এবং এক হাজার জনে একজন অধিক মাত্রার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারেন। টিকা নেবার পরে টিকা নেওয়ার স্থান লাল হওয়া, সামান্য ফুলে যাওয়া, স্বল্পমাত্রার ব্যথা অনুভব করা, জ্বর ওঠা, মাথাব্যথা, ক্লান্ত বোধ করা, মাংসপেশীতে ব্যথা অনুভব হতে পারে।

সাধারনত এই উপসর্গগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেরে যায়। তবে যে কেউ এই টিকা নিতে পারবেন। কিন্তু যাদের পূর্বে কোন টিকায় অথবা কোভিড-১৯ টিকায় অ্যালার্জি দেখা দিয়েছিলো এমন ক্ষেত্রে (টিকার একটি উপাদান পলিথিলিন গ্লাইকলে কারও কারো এলার্জি থাকতে পারে),  গর্ভাবস্থায় এবং যেসব মায়েরা বুকের দুধ খাওয়ান, ক্যান্সার এর জন্য কেমোথেরাপি/রেডিয়েশন নিয়েছেন এমন ব্যাক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যেমন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি যারা উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েড নিচ্ছেন, তীব্র অ্যালার্জি, অ্যাজমা, হাঁপানি থাকলে, রক্তপাত হয় সহজেই এমন অসুখ থাকলে, রক্তজমাট না বাঁধার জন্য যেসব রোগী ওষুধ সেবন করছেন, অন্য কোন গুরুতর অসুস্থতা থাকলে, তারা এই টিকা নেওয়ার উপযুক্ত নন।যেকোন টিকা আমাদের নিজেদের ও বাচ্চাদের জন্য অবশ্যই নিতে হবে কেননা এ ছাড়া নিজেকে নিরাপদ করা ও মহামারির হাত থেকে বাঁচার অন্য কোন উপায় নাই। কিন্তু কোনো টিকাই শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, টিকা দেওয়ার পর, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরে কতদিন স্থায়ী হবে তাও নিশ্চিত নয় এখনো।

তাই টিকা দেওয়ার পরেও মাস্ক পরিধান করা, দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, বার বার হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। কেননা যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন বা টিকা নিয়েছেন তাদের করোনা না হলেও বাহক হিসাবে তাদের মাধ্যমেও নিরবে করোনা ছড়াতে পারে।আরও মনে রাখতে হবে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ১০/১২ দিন পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে শুরু হলেও তা সম্পূর্ন কার্যকরী হতে অন্তত ৫/৬ সপ্তাহ সময় লাগে।
মাস্ক, দৈহিক দূরত্ব এবং টিকার সমন্বয়েই আমরা মহামারি দূর করার কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে পারি, শুধু টিকাই যথেষ্ট নয়।

অতএব টিকা নিন; সতর্ক থাকুন; নিজে বাঁচুন-অন্যকে বাঁচান।