অবৈধ পণ্যে সয়লাব রোহিঙ্গা ক্যাম্প

অবৈধ পণ্যে সয়লাব রোহিঙ্গা ক্যাম্প

নগরজীবন

কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর হাজার হাজার দোকানপাট অবৈধ বার্মিজ পণ্যে সয়লাব হয়ে গেছে। চোরাইপথে আসা এসব বিদেশি পণ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে। অবৈধ পথে আসা এসব পণ্যের কারণে একদিকে দেশীয় পণ্য বাজার হারাচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মুদ্রা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে যেসব দোকানপাট গড়ে উঠেছে, সেখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মিয়ানমারের তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিড়ি-সিগারেট, পানমশলা, হরেক রকমের জর্দা, সাবান, প্রসাধনসামগ্রী, লুঙ্গি, থামি, স্যান্ডেল, কোমলপানীয়, যৌন উত্তেজক বড়িসহ নানা জাতের তামাকপণ্য। কিছু বার্মিজ পণ্য আবার ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয় বাজার ও দোকানপাটেও মিলছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করা এসব পণ্য আসার পেছনে রোহিঙ্গারা ছাড়াও জড়িত রয়েছেন এখানকার স্থানীয় কিছু বাঙালি ও মিয়ানমারের মগ-মুরংরাও। জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের উলুবনিয়া, লম্বাশিয়া, টেকনাফের ল্যাদা, চৌধুরী পাড়া, জালিয়া পাড়া, উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালীসহ বেশ কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এসব পণ্য এসে থাকে। পুলিশ, বিজিবি, এবিপিএনসহ সীমান্তে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব বার্মিজ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেও এসব পণ্য এসে থাকে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে সিগারেট বা তামাকজাত পণ্যই বেশি আসছে মিয়ানমার থেকে। স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গাদের দোকানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে বিদেশি সিগারেটসহ নানা রকম মাদকদ্রব্য। এতে স্থানীয় যুবসমাজ অনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়ছে। টেকনাফের কাস্টমস কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, গত ছয় মাস ধরে লকডাউনের কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে কোনো ধরনের পণ্য আমদানি হয়নি। লকডাউনের আগে সীমান্তচুক্তির আওতায় যেসব পণ্য আসত সেখানে তামাকজাত পণ্য, কোমলপানীয়, প্রসাধনী এ ধরনের কোনো পণ্য ছিল না। ক্যাম্পে এরকম কোনো পণ্য পাওয়া গেলে তা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এসেছে। এ ধরনের পণ্য এসে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদিকে কক্সবাজার এবিপিএন ১৪ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে দায়িত্বে থাকা সব বাহিনী কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ক্যাম্পে অবৈধভাবে আসা মিয়ানমারের পণ্যগুলো উঠিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। তবে এতে সম্পূর্ণরূপে সফল হওয়া সম্ভব নয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও তারা তাদের ঝুপড়িতে এসব অবৈধ মালামাল লুকিয়ে রাখে।

 স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা এখানে চুরি বা ত্রাণ বিক্রি করে অথবা অবৈধভাবে চাকরি বা দিনমজুরি করে যে টাকা পায়, সেটাও তারা মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।